দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
সর্বশেষ দৌলতখান কৃষি

লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ
  ষ্টাফ রিপোর্টার: ভোলার লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণ কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। করিমুন্নেছা-হাফিজিয়া মহিলা কলেজ থেকে পূর্বমুখী মফিজুল ইসলাম কানু সড়কের হেরিংবোন পদ্ধতিতে সম্প্রসারণকাজে সিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিম্নমানের কাজের ছবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সড়কের দুই পাশে উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে পিচ ঢালাইয়ের পরিবর্তে ইট বসিয়ে হেরিংবোন করা হচ্ছে। তবে কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবহৃত ইট সিম্নমানের এবং যথাযথ বেডিং ও কম্প্যাকশন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে ইট বসানোর পরদিনই ভারী যানবাহনের চাপে রাস্তার বিভিন্ন অংশ দেবে যাচ্ছে। সরেজমিনে লালমোহন মহিলা কলেজের সামনে সদ্য নির্মিত অংশে ট্রাক চলাচলের পর এক দিনের মধ্যেই রাস্তা বসে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের কাজে পচা, পিকেট ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত পরিমাণ বালির স্তর না দিয়ে সামান্য পানি ছিটিয়ে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। মাকসুদ, জসিম ও মতিনসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, এভাবে কাজ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমেই সড়কটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন এবং তদারকির দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে সেই প্রতিনিধিরও উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজনকেই কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিরণ দাবি করেন, প্রথমে সিম্নমানেরকিছু ইট এলেও তা ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে ভালো মানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মো. মোশারফ বলেন, প্রায় ১৬০০ ফুট সড়কের জন্য ৪০ লাখ টাকার কাজ হাতে পেয়েছেন তারা। সীমিত বাজেটের মধ্যেই কাজের মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কাজের শুরুতেই যেখানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে পুরো প্রকল্পের গুণগত মান কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় সিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।