দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
সর্বশেষ দৌলতখান শিক্ষা

ভোলা শিবপুর বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দুর্নীতি–নির্যাতনে উত্তাল শিক্ষক–শিক্ষার্থী অপসারণ ও শাস্তির দাবি

ভোলা শিবপুর বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দুর্নীতি–নির্যাতনে উত্তাল শিক্ষক–শিক্ষার্থী  অপসারণ ও শাস্তির দাবি
মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল, দৈনিক ভোলা টাইমস্::ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার নুরুন নাহার বেগম ও তার স্বামী সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষিকা নুরুন নাহার বেগম নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং হুমকি–ধমকি দেন। অল্প কারণেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া টিকা নিবন্ধন ও উপবৃত্তির অজুহাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ২০০২ সালে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদানকারী নুরুন নাহার বেগম ২০০৪ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহায়তায় অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তিনি বেতন–ভাতা ও টাইম স্কেল গ্রহণে অনিয়ম এবং সহকারী শিক্ষক এমপিওভুক্তির নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি (২৭ জুলাই) সহকারী প্রধান শিক্ষক বেলায়েত স্যারকে বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা অভিযোগ করেন, “প্রধান শিক্ষিকার কারণে বিদ্যালয়ে ভয় ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাসে আসে।” এ ছাড়া প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগও করেছেন শিক্ষকরা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাবেক প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্ত্রীকে প্রধান শিক্ষক পদে বসিয়েছেন। --- বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বেলায়েত মিয়া বলেন, “সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান করা অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগগুলো গুরুতর—আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।” তবে প্রধান শিক্ষিকা নুরুন নাহার বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিদ্যালয়টি আমার স্বামীর অর্থায়নে পরিচালিত হয়। কারও সঙ্গে আমি খারাপ আচরণ করিনি।” ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজাহারুল হক বলেন, “প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একবাক্যে বলেন, “নুরুন নাহার বেগমকে অপসারণ ছাড়া বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ ফিরবে না।”   তারা দ্রুত শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কামনা করেছেন। ---