ভোলা-ফরিদপুরে হাম আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় রোগী বেড়েছে, এক শিশুর মৃত্যু
Newsroom Thursday, 02 April, 2026 পড়ার সময়: 1 মিনিট 6 বার পঠিত
ডেস্ক নিউজ:
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো উপকূলীয় জেলা ভোলায় বাড়ছে হামের আশঙ্কা। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার দুই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ শিশু। এর মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলায় একজন এবং ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে আরও ১৪ জন। অপরদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে রোগী বাড়ছে জেলার হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে আইসোলেশন ইউনিটে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন। তবে এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করেই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, আগে জেলায় হামের তেমন প্রকোপ না থাকলেও এখন শিশুদের নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভোলার ছয়টি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৪টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে শয্যা ও ইউনিট বাড়ানোর প্রস্তুতিও রয়েছে। ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, হাম মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলার প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে।ভোলা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রয়েছেন। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, এখনো নিশ্চিতভাবে কেউ হাম আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ভোলায় চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অন্যদিকে ফরিদপুরেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত রহিমা আক্তার মাদারীপুর সদর উপজেলার কাউদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ খানের মেয়ে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, চূড়ান্ত রিপোর্ট না এলেও উপসর্গ বিবেচনায় এটিকে ক্লিনিক্যালি হামজনিত মৃত্যু হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬ জন রোগী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা না নিলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।