দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
দৌলতখান কৃষি

ভোলার মনপুরায় বেশী দামেও মিলছে না বিদ্যুৎ, গ্রাহকদের বিক্ষোভ

ভোলার মনপুরায় বেশী দামেও মিলছে না বিদ্যুৎ, গ্রাহকদের বিক্ষোভ
  বাবুল রানা, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার মনপুরা উপজেলায় বেশী দাম দিয়েও বিদ্যুৎ না পেয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৩০টাকাসহ সাথে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট দিয়ে দিনে দুই ঘন্টার বেশী বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন রিনিউএবল (ডব্লিউ আর ই এল) ২৭৯.৫ কিলোওয়াট সোলার মিনি গ্রীড বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা গ্রাহকরা। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের পর থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৩০টাকা সাথে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট নিয়ে থাকেন। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আওতায় প্রায় এক হাজারের অধিক গ্রাহক রয়েছে। প্রথম দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও গত ৬মাস ধরে দিন-রাত মিলে মাত্র দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তীতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা রয়েছেন চরম বিপাকে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়ালেখায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয় একাধিক গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, বেসরকারি এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৩০টাকা করে নিচ্ছে। সাথে আছে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট। এর পরও তারা সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে না। নানা অজুহাত দেখিয়ে দিন-রাত মিলে দুই থেকে তিন ঘন্টাও বিদ্যুৎ দেয় না। এতে করে দিনের বেলা তীব্র গরম ও রাতে অন্ধকারে থাকতে হয় তাদের। গত ৬মাস ধরে এমন ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা। কিন্তু মাস শেষে হলে বিলের সাথে সার্ভিস চার্জসহ সকল বিল পরিশোধ করছেন তারা। তাই আজ ক্ষুব্ধ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন স্থানীয় সিরাজগঞ্জ বাজার, কোড়ালিয়া বাজার ও জনতা বাজার ব্যবসায়ীরা। সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সাকুচিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, রাতে বিদ্যুৎ না দেওয়ায় কুপি ও হারিকেনের আলোয় পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরকে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রর প্রকল্প পরিচালক এস.এন. কাইয়ুম বাপ্পি বলেন, “আমাদের প্রতিদিন রেজিস্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের হিসাব রাখা হয়। আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূর্যের আলোতে চার্জের মাধ্যমে চলে। ফলে রোদ না থাকলে সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাকআপ হিসেবে আমাদের ২৫০কিলোওয়াটের একটি জেনারেটর রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশে ডিজেলের সংকট থাকায় জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। আমরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ডিজেলের জন্য আবেদন করেও পাইনি। বিষয়টি আগে মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, এখন লিখিতভাবে জানানো হবে। মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ভূইয়া সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তালা দিয়েছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বরত লোকজনের সাথে ঝামেলা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। পরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। মনপুরায় জ্বালানি সংকট নেই।