দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
দৌলতখান মনপুরা কৃষি শিক্ষা

ভোলার নদীতে ইলিশের আকাল, জেলেদের হাহাকার

ভোলার নদীতে ইলিশের আকাল, জেলেদের হাহাকার
  ভোলা প্রতিনিধি: দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এতে ভরা মৌসুমে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। জেলেরা জানিয়েছেন, নদীতে বর্তমানে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে নৌকা চালানোর জ্বালানি খরচও উঠছে না। ফলে টিকে থাকার সংগ্রামে কিস্তি ও ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না অনেক জেলে পরিবার। বুধবার ভোলার বিভিন্ন মাছের আড়ত ও ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ধরা শুরু হলেও জেলে ও ব্যবসায়ীরা খুবই অল্প পরিমাণ ইলিশ নিয়ে ফিরছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, জেলায় তিন লাখেরও বেশি জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে মৎস্য বিভাগে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৬৮ হাজার। ইলিশের তীব্র সংকটে এই বিপুল সংখ্যক জেলে এখন মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। নদী থেকে আয় কমে যাওয়ায় অনেক জেলে পরিবার প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের মৌসুমী চক্রে পরিবর্তন এসেছে। মাছের চলাচলের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে এই সংকট দেখা দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে। ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর মাছ ঘাটের জেলে কামাল মাঝি জানান, প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরতেন। তখন জেলেপাড়ায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করত। কিন্তু বর্তমানে তারা অনাহার আর কষ্টে দিন পার করছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইলিশের উৎপাদন কিছুটা কমেছে। তবে জুন ও জুলাই মাসে নদীতে ইলিশের আনাগোনা বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করছেন। এই মৎস্য কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক জেলে নিয়মিত নদীতে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এটি জেলে সম্প্রদায়ের সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।