দেশের দক্ষিণের জেলা ভোলায় হঠাৎ শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ২৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটি আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ভোলার এই উদ্বেগের বিপরীতে স্বস্তির খবর মিলেছে মানিকগঞ্জে। জেলাটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া ১৮ জন শিশুর মধ্যে ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থাকা শিশুদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, গত তিন দিনে কোনো চিকিৎসক ওয়ার্ডে আসেননি। এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও দেখা মিলছে না। আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দাবি করে যথাযথ চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিভাবকরা। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৈয়বুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন, রোগীদের আলাদা আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মু: মনিরুল ইসলাম জানান, গত এক বছরে জেলাটিতে মোট ৪৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ঢাকা থেকে ৩০ হাজার ডোজ হাম-রুবেলা টিকা ভোলার জেলা ভ্যাকসিন স্টোরে এসে পৌঁছেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী রোববার থেকে পুরোদমে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। এদিকে ভোলার চিত্র উদ্বেগের হলেও মানিকগঞ্জে হাম পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোফাখখারুল ইসলাম জানান, গত এক সপ্তাহে মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মোট ৪১ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলো, যাদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। জেলায় টিকার কোনো সঙ্কট নেই এবং এপ্রিল মাসেও ঘাটতি হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এদিকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ায় তিন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে বলে জানা গেছে।
ভোলায় হামের রক্তচক্ষু, মানিকগঞ্জে স্বস্তি
ডেস্ক রিপোর্ট: