দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
কৃষি দৌলতখান ভোলা জেলা সর্বশেষ

ভোলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

ভোলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
  মো. সাইফুল ইসলাম, ভোলা: ভোলার চরফ্যাশনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রভাব বিস্তার করে সরকারি প্রকল্পে হস্তক্ষেপ, ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ও ভয়ভীতির মাধ্যমে তিনি এলাকায় এক ধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ফলে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্প (CTCRP)-এর আওতায় এলজিইডির অর্থায়নে পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়ায় একটি সড়কের উন্নয়নকাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, আলমগীর মালতিয়া ওই প্রকল্পের মূল কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারকে তার ব্যক্তিগত বাড়ির উঠান ও প্রবেশপথ পাকা করতে বাধ্য করেন। ভুক্তভোগী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘কাজী এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক কাজী মনির হোসেন বলেন, 'আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বাধ্য হয়ে তার ব্যক্তিগত বাড়ির কাজ করেছি। কিন্তু ওই কাজের কোনো বৈধ টেন্ডার বা বিল না থাকায় এখন আর টাকা পাচ্ছি না।' তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলমগীর মালতিয়া। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। চরফ্যাশন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম হাসানও অভিযোগের সত্যতা আংশিক স্বীকার করে বলেন, 'মালতিয়ার বাড়ির আঙিনা পাকা করার কোনো অনুমোদিত টেন্ডার নেই। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।' যদিও আলমগীর মালতিয়া নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দেন, দলটির স্থানীয় নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। উপজেলা যুবদল নেতা সায়েম মালতিয়া জানান, '১৯৯২ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে খালেদা জিয়ার নির্দেশে তাকে বহিষ্কার করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।' স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ১৯৯৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনও করেছিলেন। সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জেরে ভোলা জেলা বিএনপি চরফ্যাশন উপজেলা কমিটি বাতিল করেছে বলেও দাবি করেন স্থানীয় নেতারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, 'আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি প্রকল্প ও জনস্বার্থ আরও বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে।