ভোলায় যুবকের ভয়ংকর প্রতারণা, বড় চক্রের আশঙ্কা
ভোলার দৌলতখানে বন্ধুর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন বসবাস করে তা বাবা মাকে ‘বাবা-মা’ ডেকে কৌশলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাঈম আহমেদ মেঘ (১৯) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের চরশুভি গ্রামের ইউসুফ হাওলাদারের বাড়িতে।
অভিযুক্ত সাঈম আহমেদ মেঘের বাবার নাম মৃত হারুন এবং মায়ের নাম বকুল বিশ্বাস। প্রথমদিকে তিনি রাজধানীর মিরপুরের সাড়ে ১১ নম্বর এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। পরে তার মা দ্বিতীয় বিয়ে করায় মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক নেই জানিয়ে নিজেকে অসহায় হিসেবে পরিচয় দেন। এছাড়াও ভোলার তজুমদ্দিনে বিজয় ডাক্তার বাড়ি নামে তার গ্রামের বাড়ি রয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি।
অপরদিকে ভুক্তভোগী ওই পরিবার প্রধানের নাম মো.ইউসুফ হাওলাদার। তার স্ত্রী'র নাম রেখা বিবি। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জনক।
জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রাজধানী ঢাকার একটি জুতা কারখানায় কাজের সুবাধে অভিযুক্ত সাঈম আহমেদ মেঘের পরিচয় হয় ভুক্তভোগী ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে শরিফ হাওলাদারের। এরপর সাঈম ও শরীফের মধ্যে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে নিজেকে বাবা-মা হীন অসহায় দাবি করে শরিফের সঙ্গে ভোলায় এসে তাদের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন সাঈম। দীর্ঘদিন একই বাড়িতে বসবাসের সুবাদে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বন্ধুর বাবা মাকে ‘বাবা-মা’ ডাকেন।
পরবর্তীতে নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে বন্ধু শরিফ ও তার ভগ্নিপতিকে সিঙ্গাপুরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান সাঈম। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের গেল ১৯ মার্চ সিঙ্গাপুরের ভিসা ও চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে নগদ ১২ লাখ টাকা নেন সাঈম। পরে কৌশলে ওই বাসা থেকে ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও নেন তিনি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ইউসুফ হাওলাদার বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সাঈম তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করেছে। এমনকি তাদের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
কান্না জড়িত কন্ঠে ভুক্তভোগী ইউসুফ হাওলাদারের স্ত্রী রেখা বিবি জানান, সাঈম নামের ওই যুবক তাদের বাড়িতে আসার পর বাবা-মা নেই জানিয়ে তাকে মা ডাকেন। এরপর বিশ্বাস অর্জন করে তাদের সঙ্গে সন্তানের মত বসবাস করেন। নিজের ছেলের থেকেও তাকে বেশি আদর যত্ন করতেন।
ভুক্তভোগী ইউসুফ হাওলাদার জানান, তার বোন ও ভগ্নিপতি সিঙ্গাপুরে কর্মরত আছে বলে জানিয়ে তার ছেলে শরীফ ও মেয়ে জামাই রাসেলকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লক্ষ টাকা নেন। এছাড়াও তার ছোট জামাই হাসনাইনকে ঢাকার একটি বেসরকারি হসপিটালের রিসিপশনে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ৩ লক্ষ টাকা নেন। ভিসা দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকেন সাঈম। এরপর গেল ১৯ মার্চ কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে এই অভিনব প্রতারণায় সাঈমের মা বকুল বিশ্বাসসহ বড় একটি প্রতারক চক্র জড়িত রয়েছে। সাঈমের এ কাজে তার মা, বোন ও ভগ্নিপতি সহযোগিতা করেছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। চড়া সুদে টাকা ধার ও এনজিরও কিস্তি নিয়ে চরম বিপাকে পরিবারটি। অতিরিক্ত ঋণের চাপে মানসিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরেছেন ইউসুফ হাওলাদার ও তার স্ত্রী।
এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত সাঈম আহমেদ মেঘকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একইসঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন তারা।