দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
দৌলতখান কৃষি শিক্ষা

ভোলায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত: বেড়েছে লোডশেডিং, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

ভোলায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত: বেড়েছে লোডশেডিং, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ
  ষ্টাফ রিপোর্টার:
ভোলায় তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের অগ্নিগর্ভ রোদ আর দমবন্ধ করা গরমে চারদিকে খাঁ খাঁ করছে। রাতে তাপমাত্রা খুব একটা না কমায় মানুষের জীবনে স্বস্তি মিলছে না। রোদের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঘরের বাইরে পা ফেলাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৬০ শতাংশ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজ বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে বাইরে বের হলেই শরীর যেন পুড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার তাগিদে রোদের খরতাপ উপেক্ষা করে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। রিকশাচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘রোদের মধ্যে রিকশা চালানো এখন খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। একটু পরপরই থেমে পানি খেতে হয়। শরীর একদম দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।’ দিনমজুর আবদুল মালেক বলেন, ‘কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই গরমের মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু বেশিক্ষণ রোদে থাকা যায় না।’ কাজের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান এবং ছায়ায় কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে নিজেদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। অনেকে রোদের তাপ থেকে বাঁচতে মাথা ও মুখে পানি ঢালছেন। তীব্র গরমে তৃষ্ণা বাড়ায় পানির দোকানগুলোতেও বিক্রি বেড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ, পথচারী থেকে শুরু করে শিশুরাও বারবার পানি পান করে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করছে। তাপপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দিনে এক ঘণ্টা করে রোস্টারভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে গরমের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতরেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। শহরের ওয়েস্টার্ন পাড়ার গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরের ভেতরে থাকা যায় না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হচ্ছে।’ শিক্ষার্থী সোহান হাওলাদার বলেন, ‘গরমের কারণে পড়াশোনায় মন বসছে না। বিদ্যুৎ না থাকলে আরও সমস্যা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকলে ইন্টারনেট বন্ধ থাকে। এতে করে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করতে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।’ শহরের কালীনাথ বাজার এলাকার বাসিন্দা নান্টু কর্মকার জানান, তীব্র গরমের কারণে প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তারা দ্রুত কাজ শেষ করে আবার বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। ফলে শহরের রাস্তাঘাটেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। ভোলা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মাহাবুব হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা ৩৫ থেকে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেড়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৬০ শতাংশ। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।