ষ্টাফ রিপোর্টার:
ভোলার লালমোহনে ফিলিং স্টেশনে (পাম্প) জ্বালানি তেল না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসার সামনে বিক্ষোভ করেছেন মোটরসাইকেল (বাইক) চালকেরা। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও চালকদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাম্পগুলোকে সর্বোচ্চ রাত ১২টা পর্যন্ত জ্বালানি তেল বিক্রির সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন। একইসঙ্গে যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া তেল না দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় তেল পাননি অনেক বাইক চালক। এতে ক্ষুব্ধ চালকরা ইউএনওর বাসার সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। খবর পেয়ে লালমোহন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাইকচালক মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘রাত ১২টার পর হঠাৎ করে তেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেকেই দূর থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাইনি।’ আরেক চালক মো. সোহেল বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজপত্রের বিষয়টি আমরা বুঝি। কিন্তু হঠাৎ কঠোরভাবে তেল দেওয়া বন্ধ করে দিলে সাধারণ চালকেরা বিপদে পড়ে। আগে থেকে জানানো হলে ভালো হতো।’ স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, ‘মধ্যরাতের দিকে হঠাৎ অনেক মোটরসাইকেল এসে ইউএনওর বাসার সামনে জড়ো হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।’ বিক্ষোভের বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধ চালকদের শান্ত করে এবং বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’ লালমোহন ইউএনও মো. সিফাত বিন সাদেক সোমবার (৫ এপ্রিল) স্ট্রিমকে বলেন, তিনি এবং থানার ওসি ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। চলমান সংকটের সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যান।