পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি গবাদিপশু। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মুনাফা নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। তাদের আশা, ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ না করলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের খামারি দুলাল ব্যাপারী জানান, তার খামারে ‘কালাচাঁন’ ও ‘সাদাচাঁন’ নামে দুটি বড় গরু রয়েছে। একটির ওজন প্রায় ২২ মণ এবং অপরটির ওজন ১৮ মণ। গরু দুটি লালন-পালনে বিপুল ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি। কাঁচা ঘাসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়াতে হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। তিনি বলেন, “ভালো দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।”
[caption id="attachment_5160" align="alignnone" width="300"]
ভোলার বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত করা হচ্ছে কোরবানি পশু[/caption]
আলীনগর ইউনিয়নের বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো হাউসের প্রোপাইটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর কোরবানির বাজারে তিনি ৪০ থেকে ৫০টি গরু বিক্রি করেন। এবার তার খামারে ৫৫টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভারতের গরু না এলে এবারও ভালো লাভের আশা করছি।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮১ হাজার ১৮০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১৭টি পশু। এরমধ্যে গরু ৬৫ হাজার ২৭০টি, মহিষ ৪ হাজার ৭০২টি, ছাগল ২৬ হাজার ৪১৮টি এবং ভেড়া রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ২১ হাজার ৮৩৭টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।
[caption id="attachment_5161" align="alignnone" width="300"]
ভোলার বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত করা হচ্ছে কোরবানি পশু[/caption]
এদিকে কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য জেলায় ৪৯টি স্থায়ী এবং ১০০টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এসব হাটে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ২৪টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। তারা অবৈধভাবে মোটাতাজাকরণ করা পশু শনাক্তসহ পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমাদের তত্ত্বাবধানে জেলার খামারিরা কাঁচা ঘাস ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করেছেন। অবৈধভাবে পশু মোটাতাজাকরণের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কোরবানির হাটগুলোতেও মেডিকেল টিম থাকবে, যারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সার্বিক তদারকি করবে।”