দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
দৌলতখান কৃষি শিক্ষা

ভোলায় কোরবানির ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারপট্টিতে

ভোলায় কোরবানির ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারপট্টিতে
  বিশেষ প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে ভোলার কালীনাথ বাজারের পুরোনো কামারপট্টি। আগুনের লেলিহান শিখা, লোহায় হাতুড়ির টকটক শব্দ আর ঘামে ভেজা শ্রমে জমে উঠেছে পুরো এলাকা। সকাল গড়াতেই একের পর এক ক্রেতার ভিড়, আর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কামারদের কর্মব্যস্ততা।

কোরবানির পশু জবাইয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ দা, ছুরি, চাপাতি, বটি ও কুড়াল তৈরিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই এখানকার কারিগরদের। কেউ পুরনো দা-ছুরিতে নতুন করে ধার দিচ্ছেন, কেউবা আগুনে পুড়িয়ে নতুন সরঞ্জাম বানাতে ব্যস্ত।

কালীনাথ বাজার কামারপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট টিনশেড দোকানের ভেতর জ্বলছে কয়লার আগুন। ভাটির আগুনে লোহা লাল হয়ে উঠতেই শুরু হচ্ছে হাতুড়ির আঘাত। একের পর এক আঘাতে নিখুঁত আকার নিচ্ছে কোরবানির সরঞ্জাম। পুরো এলাকায় যেন অন্যরকম এক কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

স্থানীয় কামার পবিত্র কর্মকার বলেন, ‘এই কাজ আমাদের বাপ-দাদার সময় থেকে চলে আসছে। ছোটবেলা থেকেই আগুন আর লোহার সঙ্গে বড় হয়েছি। এখনো সেই পেশা ধরে রেখেছি। বর্তমানে কাজ কিছুটা কম থাকলেও আর এক-দুই দিন পর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তখন খাওয়া-দাওয়ারও সময় থাকে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই এখন নতুন দা-ছুরি বানাচ্ছেন, আবার অনেকে পুরনো জিনিস শান দিয়ে নিচ্ছেন। ঈদের আগে এই কয়েকটা দিনই আমাদের সবচেয়ে বেশি আয় হয়।’

আরেক কামার পরিমল কর্মকার বলেন, ‘আমি প্রায় ২৭ বছর ধরে এই পেশায় আছি। আমার আগেও বাবা-দাদারা এই কাজ করতেন। ঈদের সময় দিন-রাত এক হয়ে যায়। কখনো কখনো রাত দুইটা-তিনটা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। আগুনের পাশে বসে থাকতে থাকতে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, কিন্তু কাজ থামে না।’

তিনি জানান, কোরবানির ঈদ সামনে এলেই কামারদের ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ দা-ছুরি তৈরি ও ধার দিতে আসেন।

ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ। অনেকেই বলছেন, ভালোভাবে কোরবানি সম্পন্ন করতে ধারালো ও মজবুত সরঞ্জামের বিকল্প নেই। তাই ঈদের আগেই প্রস্তুতি সারছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতির যুগে অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে যেতে বসলেও কামারশিল্প এখনো টিকে আছে মূলত কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। বছরের অন্য সময় আয় কম থাকলেও এই মৌসুমে কিছুটা স্বস্তি ফেরে কামার পরিবারগুলোর জীবনে।

লোহার আগুন, হাতুড়ির ঝংকার আর ঘামে ভেজা মানুষের নিরলস পরিশ্রমে তাই এখন মুখর ভোলার কালীনাথ বাজার কামারপট্টি। ঈদ যত কাছে আসছে, ততই যেন জেগে উঠছে শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী পেশা।