দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
দৌলতখান চিকিৎসা কৃষি শিক্ষা

ভোলায় কালবৈশাখির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বসতভিটা, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার

ভোলায় কালবৈশাখির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বসতভিটা, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার
আদিল হোসেন তপু:
হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দ্বীপ জেলা ভোলা। ঝড়ের তীব্র আঘাতে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শিল্পকারখানা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় টানা দুই দিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
[caption id="attachment_5001" align="alignnone" width="640"] কালবৈশাখীর-তাণ্ডবে-লণ্ডভণ্ড-বসতবাড়ি [/caption]
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই অর্থের অভাবে এখনো ভাঙা ঘর মেরামত করতে পারছেন না। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটও। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভোলার চরসামাইয়া গ্রামের অসহায় ফাতেমা বেগম। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে কোনোরকমে একটি ছোট ঘর তুলে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি।
কিন্তু সোমবার বিকেলে মাত্র পাঁচ মিনিটের ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় তার সেই একমাত্র আশ্রয়স্থল। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরটি মাটির সঙ্গে মিশে গেলে এখন খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফাতেমা।
[caption id="attachment_5008" align="alignnone" width="2532"] কাল-বৈশাখির-ঝাপটায়-বিধ্বস্ত-নিজ-বসত-ঘর-ছুঁয়ে-অসহায়ত্বের-চোখে-চেয়ে-আছেন-গৃহিনী[/caption]
অর্থের অভাবে নতুন করে ঘর তুলতে পারছেন না তিনি। দুই দিন ধরে সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তা আর কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে অসহায় এই মায়ের।
ফাতেমা জানান, আমার স্বামী দিন মজুরের কাজ করে ঢাকাতে। আমি ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে কোন রকম টিকে আছি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আমার ঘরটা মাটির সাথে দ দিছে। আমি যে ঘর তুলবো সেই অর্থও আমার কাছে নাই। এখন সরকার যদি ইকটু সহযোগিতা করতো তাহলে কোন রকম ঘরটা দাড় করাতে পারতাম।
[caption id="attachment_5009" align="alignnone" width="1280"] কাল বৈশাখির ঝাপটায় বিধ্বস্ত ঘরের চালে ভিজে নষ্ট হওয়া পড়ার বই খাতা শুকাচ্ছে শিশু [/caption]  
ফাতেমার মেয়ে: ঘূর্ণিঝড় আমার বই খাতা সব ভিজি গেছে। আমি এখন সেগুলো পরতেও পারিনা স্কুলেও যেতে পারিনা। আমাদের থাকতে অনেক কষ্ট হয়। অন্যের বাসায় থাকি।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়ন সেকমা গ্রাম । এখানে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক। ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকটা মানবতার জীবন যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো।
এই গ্রামে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ঘর এর বাসিন্দা মনজোনা বলেন,ঘরটা পরে যাওয়ার কারণে থাকার মতো কোন পরিবেশ নাই।খেতেও কষ্ট।কেউ এসে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। পোলাপান নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাচ্ছি।
প্রবল বাতাস আর ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ভোলা বিসিক শিল্প নগরীসহ সদর উপজেলার চরসামায়া, ভেলুমিয়া ও আলীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিসিকের মধ্যে থাকা মেঘনা লবণ কারখানা , মুড়ি ও ভুসির একাধিক কারখানা। মেঘনা লবণ কারখানার টিনের চালা উড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে দেয়াল। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হইছে।
মেঘনা লবণ কারখানায় মালিক ইয়াদ জানান,মাত্র ৫ মিনিটের ঘূর্ণিঝড় আমাদের লবণ কারখানা লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
আমারা ধারদেনা করে ২ থেকে ৩ বছর কষ্ট করে কারখানা ধার করিয়েছি। আগামী সপ্তাহে চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কারখানা ক্ষতি গ্রস্ত হওয়ায় আমাদের স্বপ্ন মাটির সাথে মিশে গেছে।
আমাদের ঘরের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার লবণ পানি হয়ে গেছে। আমাদের কারখানা পুরা মাটির সাথে মিশে গেছে। আমাদের স্বপ্নটা ভেঙে গেছে। আমি অনেক নিঃস্ব হয়ে গেলাম। প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে আমাদের। আমরা এতো টাকা কোথায় পাবো। এখন সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। গত এক সপ্তাহ আগে চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নেও ঝড়ে অন্তত ২৫টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আর ঝড়ের পর থেকেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আরিফুজ্জামান। তিনি বলেন,ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হলেই আমরা আমাদের বরাদ্দ থেকে চাল ও টিন দেওয়া হবে।
আর্থিক অবস্থার ভালো না থাকার কারণে। ঘরবাড়ি তুলতে পারছেনা অনেকেই। তাই দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিলবে সহযোগিতা এমনটা প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের।