ভোলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগী, দুশ্চিন্তায় শিশুদের স্বজনরা
ষ্টাফ রিপোর্টার:
ভোলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে রোগীরা। গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলা সদর হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২২জন রোগী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভোলা হাসপাতালে ভর্তি হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭জনে। তবে শয্যা সংকটের কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সারাদেশের ন্যায় ভোলায় হাম রোগের বিস্তার ঘটায় এ নিয়ে রোগীদের বাবা-মায়ের কাছে এক আতঙ্কের নাম। হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই ভোলা সদর হাসপাতালে বাড়ছে রোগীদের ভিড়। ভোলা সদর হাসপাতালের ৬০ বেডের শিশু ওয়ার্ডে এখন তিনগুণ রুগি ভর্তি। হাসপাতালে তিল ধরনের জায়গা টুকু নেই। প্রতিটি শয্যায় হামের উপসর্গ নিয়ে কাতরাচ্ছে অবুঝ শিশুরা। সেই সাথে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্বজনদেরও। শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতে এমনকি বারান্দায় থাকতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদেরও। কোন কোন বেডে একাধিক রোগী ভর্তি হয়ে সেবা নিচ্ছেন। ভোলায় হঠাৎ করে নিউমনিয়া রোগীর পাশাপাশি বেড়েছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা।
শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলা সদর হাসপাতালে নতুন করে ৭জন সহ ভর্তি হয়েছে ২২ জন রোগী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৭ জনে। ভোলা সদর হাসপাতালে গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছে নিউমোনিয়া ও হাম উপসর্গ নিয়ে। শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে দিতে হচ্ছে চিকিৎসা। এতে ভোগান্তি রুগি ও স্বজনরা। অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের স্টাফরা রুগীদের সাথে সিট বাণিজ্য করছে। হাসপাতালে সুস্থ হতে এসে হতে হচ্ছে আরো অসুস্থ। এমনকি সরকারি হাসপাতালে ঔষুধ কম থাকায় প্রয়োজনীয় ঔষুধ বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে রুগীর স্বজনদের। তাই সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভোগান্তিতে।
ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ইনকিলাবকে জানা, ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ইনডোর ও আউট ডোর মিলে প্রতিদিন ৪ শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। আর জনবল সংকটের কারণে রুগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্সরা। হাম আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়া ও টিকা নেওয়ার আহ্বান চিকিৎসকদের।
তাই শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভিন্ন শিশু হাসপাতালের দাবি জানান রুগীর স্বজনরা।