বিবাদীকে ১৭ বছর ভোগান্তি; আদালতের রায় মানতে নারাজ বাদীপক্ষ
ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে দীর্ঘ ১৭ বছরের জমি নিয়ে বিরোধ মামলার রায় ডিক্রী বাস্তবায়নে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালতের রায় ডিক্রী আলোকে বাদীপক্ষ যে জমি পেয়েছে , সেই জমি বহু আগেই বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বাদীর বাবা, সরেজমিনে তার প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভোলা শিবপুর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বিবাদী শিবপুর ইউনিয়ন রতনপুর গ্রামের মৃত ওহিদ মেইকারের ছেলে আজগর আলী অভিযোগ করে বলেন: মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের সকল সদস্য কে ১৭ বছর ধরে আদালতে ঘুরানো হয়েছে। এখন রায় ডিক্রী কার্যকর করতে গিয়ে সত্য প্রকাশ পেয়েছে।”
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোলার বিজ্ঞ সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-১০০/২০১৮ মামলায় বাদীপক্ষ মিজান গং কে ১ একর ৩০ শতাংশ এবং বিবাদীপক্ষদেরকে ৩ একর ৩২ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার রায় ডিক্রী দেন আদালত।
রায় বাস্তবায়নে আদালত নিযুক্ত কমিশন গত ১ মে ও ৮ মে সরেজমিনে গিয়ে জমি বণ্টন কার্যক্রম পরিচালনা করে। কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন কোর্ট সার্ভেয়ার মো. জুয়েল, নাজির মো. মিজানুর রহমান, জারিকারক নুরুল ইসলাম ও রূপম মিয়া।
দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমে গিয়ে দেখা যায়, বাদীপক্ষ যে জমি দাবি করছে তা আজগর আলীর দখলে নেই। বরং স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো ভোগদখল করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বাদীপক্ষের পূর্বসূরি মৃত সফিজল হক মেম্বার জীবদ্দশায় এসব জমি বিক্রি করে গেছেন।
সরেজমিনে এই বাস্তবতা প্রকাশ্যে আসতেই বাদীপক্ষ মিজান গং রায় ডিক্রী অস্বীকার করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজগর আলী বলেন, ১৭ বছর ধরে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন প্রমাণ হয়েছে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ছিল। আমি এ হয়রানির বিচার চাই।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মিজান জানান, আমি প্রত্যেক দাগে জমি পাবো। এক জায়গা থেকে জমি নেব না, প্রত্যেক দাগে দাগে নিবো।
ঘটনার পর এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে, জমি আগেই বিক্রি করে কেন ১৭ বছর ধরে মামলা চালিয়ে একটা পরিবারকে হয়রানি করা হলো?