বন্ধুর কবর খুঁড়তে নেমে সেই কবরেই চিরনিদ্রায় বন্ধু
ডেস্ক নিউজ:
যে কবরটি খুঁড়ছিলেন প্রিয় বন্ধুর শেষ ঠিকানা হিসেবে, শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে গেল নিজের চিরনিদ্রার স্থান। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো এলাকাকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে। মৃত বন্ধুরা হলেন আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫)। দীর্ঘদিনের এই দুই বন্ধু এলাকায় মানবিক কাজের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, জীবদ্দশায় তারা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। একজন কাঠমিস্ত্রি, অন্যজন মসজিদের মুয়াজ্জিন হলেও সমাজসেবায় তাদের ছিল এক অনন্য বন্ধন। এলাকায় কেউ মারা গেলে তারা বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিতেন। ইতোমধ্যে তারা শতাধিক কবর খুঁড়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে একসঙ্গে চা পান এবং আজ সোমবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করেন তারা। কিন্তু সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান বাচ্চু পাটওয়ারী। বন্ধুর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন আবুল হাশেম। শোক সামলাতে না পেরে নিজেই বন্ধুর কবর খুঁড়তে কবরস্থানে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কবর খোঁড়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই আবুল হাশেম কবরের ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ওপরে তোলা হলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান। আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, আমার বাবা ও বাচ্চু চাচা ছিলেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মানুষ মারা গেলে সওয়াবের আশায় তারা বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়তেন। আজ বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়েই বাবাও মারা গেলেন। বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, আমরা একসঙ্গে কবর খুঁড়ছিলাম। শেষ দিকে হাশেম কাকা হঠাৎ কবরের ভেতরে পড়ে যান। পরে তুলে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, দুই বন্ধুর এই মৃত্যু যেন এক অদ্ভুত মিলন। জীবনে যেমন একসঙ্গে ছিলেন, মৃত্যুতেও তেমনি একসঙ্গে চলে গেলেন—এ দৃশ্য এলাকাবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে পরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।