দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
অপরাধ দৌলতখান কৃষি

ফেরি সংকটে ভোলায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ: ২-৩ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে ২-৩ দিন

ফেরি সংকটে ভোলায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ: ২-৩ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে ২-৩ দিন
ভোলা টাইমস স্টাফ রিপোর্টার লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে ফেরি সংকট, নদীর নাব্য হ্রাস ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ভোলায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও গাড়িচালকরা। অনেক সময় সাধারণ ২-৩ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ২-৩ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। মেঘনা নদীর তীরে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী ফেরি ঘাট দিয়ে ভোলাসহ দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলার যানবাহন যাতায়াত করে। বর্তমানে এই রুটে চারটি ফেরি (বেগম রোকেয়া, বেগম সুফিয়া কামাল, কাবেরী ও কুসুমকলি) চলাচল করলেও ফেরির সংখ্যা অপ্রতুল। এছাড়া জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে ফেরি চলাচল করায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, ফেরি ঘাটে অর্ধশতাধিক মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ দিনের পর দিন আটকে আছে। অনেক গাড়িচালক আগের দিন সন্ধ্যায় এসেও পরের দিনও ফেরি পার হতে পারছেন না। ঘাটে থাকা-খাওয়া ও ওয়াশরুমের সুবিধার অভাবে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সমস্যার প্রধান কারণ: - রহমতখালী নদীতে পলি জমে নাব্যতা হ্রাস - অবৈধ বালু উত্তোলন ও বলগেট চলাচল - ফেরির অপর্যাপ্ততা - জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীলতা ফেরির মাস্টার জহিরুল ইসলাম জানান, জোয়ার থাকলে ২ ঘণ্টায় ভোলা পৌঁছানো গেলেও জোয়ার না থাকলে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। বলগেটগুলো নিয়ম না মানায় সমস্যা আরও বেড়েছে। গাড়িচালক মো. সজীব বলেন, “ঢাকা থেকে এসে ঘাটে আটকে আছি। ফেরি না পেয়ে দুই দিন ধরে এখানে আছি।” বিআইডব্লিউটিএর ম্যানেজার আতিকুর জামান জানান, রহমতখালী নদীর নাব্য কমে যাওয়া ও চ্যানেলের চওড়া কমে যাওয়াই মূল সমস্যা। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুইয়া বলেন, এটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংসদে নোটিস দিয়ে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোলার সাথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই নৌরুটে দ্রুত ফেরি বৃদ্ধি, নদী খনন ও বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।