ভোলার মনপুরা উপজেলার ৫ নম্বর চর কলাতলী ইউনিয়নে একটি খালের ওপর সেতু বা কালভার্ট না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে অন্তত চার হাজার মানুষকে।
কলাতলীর আবাসন বাজার থেকে মাওলানা বাজারে যাওয়ার পথে বড় এই খালটি এলাকাবাসীর চলাচলের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান: মনপুরার ৫ নম্বর চর কলাতলী ইউনিয়নটি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিক কারণে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। এর সঙ্গে খালের ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিনের চলাচল আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে: খালের ওপর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি সরু একটি সাঁকোই পারাপারের একমাত্র উপায়। সাঁকোটির অবস্থা অত্যন্ত নড়বড়ে এবং একসঙ্গে দুইজন চলাচল করাও কঠিন। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন: “প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচল করতে হয়। একটু পা পিছলে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা আতঙ্কে থাকি।”
হালিমা বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন: “বাজারে যেতে হলে এই সাঁকোই একমাত্র পথ। বর্ষা এলেই পানি বেড়ে যায়, তখন ভয় আরও বাড়ে। শিশুদের কোলে নিয়ে পার হতে হয়।”
এক শিক্ষার্থী জানায়: “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে হয় এবং বৃষ্টি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
এলাকাবাসী জানান: চর কলাতলীতে এখনো কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ অবস্থায় নড়বড়ে সাঁকোটি টিকবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
তাদের আশঙ্কা: আসন্ন বর্ষা ও ঝড়ের সময় সাঁকোটি ভেঙে গেলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।