দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
দৌলতখান কৃষি

দুইমাস নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, ভোলার ১ হাজার ৮০০ জেলে পেল খাদ্যসামগ্রী

দুইমাস নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, ভোলার ১ হাজার ৮০০ জেলে পেল খাদ্যসামগ্রী
  ষ্টাফ রিপোর্টার: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় সংশোধিত)-এর আওতায় ইলিশ অভয়াশ্রমে মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা ১ হাজার ৮০০ জেলের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা সম্প্রসারিত ভবনের দ্বিতীয় তলার হলরুমে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলেদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাফরুজা সুলতানা। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৮০০ সুফলভোগী জেলেকে মাসিক ভিত্তিতে ৬ কেজি আটা, ৪ কেজি ডাল, ৫ লিটার তেল, ৮ কেজি আলু, ২ কেজি চিনি ও ২কেজি লবণ প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় ৪০ জন, হাসাননগরে ৩০০, গঙ্গাপুরে ২২০, দেউলায় ৩০, কুতুবায় ৫০, বড়মানিকায় ৩০০, পক্ষিয়ায় ২৫০, সাচড়ায় ৩০০, টবগীতে ২৭০ এবং কাচিয়ায় ৪০ জন জেলে এ সহায়তা পাচ্ছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় জেলেদের সাময়িক ত্যাগের মূল্য সরকার দিচ্ছে। জেলেরা যাতে নিষেধাজ্ঞার সময় কষ্টে না থাকে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালু রেখেছে। জেলেদের কল্যাণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নদীতে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে জেলেদের সহযোগিতা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’ বিশেষ অতিথি মাফরুজা সুলতানা বলেন, ‘জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা এবং নদীর সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খাদ্য সহায়তা শুধু সাময়িক সহযোগিতা নয়, এটি জেলেদের মধ্যে সরকারি উদ্যোগের প্রতি আস্থা বাড়ায়। ইলিশ রক্ষায় জেলেরা নিয়ম মেনে নিষেধাজ্ঞা পালন করলে আগামী দিনে তাদের আয়ও বাড়বে।’ সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত জেলেদের মাঝে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন তদারকি করছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোবিন্দ মন্ডল, উপজেলা বিএনপির নেতরাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। আলোচনা সভা শেষে জেলেদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার ফলে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল মিলবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমও আরও বেগবান হবে।