ডা. আঁখির ‘চিকিৎসা বাণিজ্যের’ বলি ৫ প্রাণ
চরফ্যাশন প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশনে চিকিৎসার নামে ভয়ংকর ‘মরণযজ্ঞের’ অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সেবার আড়ালে গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যিক সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে রয়েছেন ডা. আঁখি আক্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় গত কয়েক বছরে অন্তত পাঁচজন প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার (৬ মে) জান্নাত (২৫) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বুধবার দুপুরে প্রসব বেদনা নিয়ে আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কাশেম খন্দকারের স্ত্রী জান্নাতকে ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ডা. আঁখি স্বাভাবিক প্রসবের আশ্বাস দিয়ে চিকিৎসা শুরু করলেও রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ার পরও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়নি। স্বজনদের দাবি, অধিক মুনাফার আশায় সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে গর্ভে সন্তান রেখেই মৃত্যুবরণ করেন জান্নাত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও ডা. আঁখির বিরুদ্ধে একাধিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার অনুপস্থিতিতে এক নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সশরীরে উপস্থিত না থেকে মুঠোফোনে অদক্ষ নার্স ও আয়াদের নির্দেশনা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব কার্য পরিচালনা করতেন। শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার না করায় শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সেন্ট্রাল ইউনাইটেড হাসপাতালে মুন্নী আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠে। দুলারহাট এলাকার আরও এক প্রসূতি এবং ২০২২ সালে একই প্রতিষ্ঠানে দুই নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাতেও ডা. আঁখির নাম উঠে আসে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ডা. আঁখির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলোতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। ডেলিভারির মতো স্পর্শকাতর কাজ অদক্ষ আয়া ও নার্সদের দিয়ে করানো হয়। সংকটাপন্ন রোগীদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্লিনিক সাময়িক সিলগালা করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সব ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. আঁখি আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
তবে ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মু: মনিরুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীরা চাইলে থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চরফ্যাশনের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের দাবি, শুধু তদন্ত কমিটি নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় চিকিৎসা বাণিজ্যের বলি হয়ে আরও বহু পরিবার নিঃস্ব হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।