ভোলা জেলার চরফ্যাশনে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার বিষয়ে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম ও বেতুয়া লঞ্চঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE)-এর উদ্যোগে, জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (UNIDO)-এর কারিগরি সহায়তা এবং নরওয়ে সরকারের অর্থায়নে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়। চরফ্যাশন উপজেলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার এবং প্লাস্টিক দূষণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা পরিবেশের অবক্ষয়, প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা এবং জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। কর্মসূচিতে ৫০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি সদস্য, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিডি ক্লিন এবং ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফোরামের সদস্যরা। উপকূলীয় এলাকা ও নদীবন্দর অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে, কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহ প্রদান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. নূরুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় পরিচালক (বরিশাল) মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপপরিচালক মিসেস রুবিনা আক্তার এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমাদুল হোসেন। এছাড়া ইউনিডো বাংলাদেশের জাতীয় বিশেষজ্ঞ এস. এম. আরাফাতসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্যে ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং পর্যটন ও নদীবন্দর এলাকায় উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মূল প্রবন্ধে এস. এম. আরাফাত বলেন, প্লাস্টিক দূষণ একটি বৈশ্বিক সংকট। তিনি নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানান। মিসেস দিলরুবা আক্তার একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমিয়ে পুনঃব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক ব্যবহারে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নূরুন নাহার পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় পরিবেশগত বিধিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মো. মিজানুর রহমান শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, কর্মসূচিটি দুটি স্থানে অনুষ্ঠিত হয়—চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এবং বেতুয়া লঞ্চঘাট এলাকায়। উভয় স্থানেই একই অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। একদল উপজেলা পরিষদ ও পার্ক এলাকায় এবং অন্যদল বেতুয়া লঞ্চ টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও প্রশান্তি পার্ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৩,০৫১.০৪ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চরফ্যাশনে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার বিষয়ক সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ষ্টাফ রিপার্টার: