চরফ্যাশনে পর্যটকদের হয়রানি, চাঁদাবাজ যুবককে শাস্তি দিলেন যুবদল নেতা
ষ্টাফ রিপোর্টার:
ভোলার চরফ্যাশনে পর্যটকদের আটক করে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক যুবককে জনসমক্ষে ১০০ বার কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার খেজুরগাছিয়া মেঘনা নদীর তীরবর্তী পর্যটন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর খেজুরগাছিয়া পর্যটন এলাকায় দর্শনার্থী যুবক-যুবতীদের আটক করে হয়রানি ও চাঁদাবাজি করতেন রাশেদ নামে এক যুবক ও তার সহযোগীরা। অভিযুক্ত রাশেদ হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা ইয়াছিন দালালের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাশেদ দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় আগত পর্যটকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে আসছিলেন। অনেকেই এমন হয়রানির শিকার হলেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। সম্প্রতি খেজুরগাছিয়া পর্যটন স্পটে এক দম্পতিকে আটক রেখে চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা পান উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সাবেক কাউন্সিলর হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল। পরে তিনি জনসমক্ষে অভিযুক্ত রাশেদকে ১০০ বার কান ধরে ওঠবস করান। পরিবারের অনুরোধে প্রথমবারের মতো কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, সাম্য ও মানবিক চরফ্যাশন গড়তে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চরফ্যাশন ও মনপুরায় চাঁদাবাজ, দখলদার বা অপরাধীদের কোনো স্থান হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। স্থানীয়রা জানান, খেজুরগাছিয়া পর্যটন এলাকা দিন দিন দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা এলাকার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এলাকাবাসীর দাবি, পর্যটন এলাকায় চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। খেজুরগাছিয়াকে নিরাপদ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।