দৈনিক ভোলা টাইমস্
|
দৌলতখান

চরফ্যাশনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র

চরফ্যাশনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র
ভোলার চরফ্যাশনে নির্মিত ২৩০/৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক জিআইএস (গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার) গ্রিড সাবস্টেশন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। বুধবার বিকেল ৫টায় উপকেন্দ্রটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এটি চালুর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ সমস্যার সমাধান হবে। নতুন এই গ্রিড সাবস্টেশন থেকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে চরফ্যাশনজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত মানের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গ্রিড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান রিভারি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং চীনা প্রতিষ্ঠান এসপিটিডিই। জলবায়ু তহবিল থেকেও এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করে উপকেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহার পর যেকোনো দিন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ৪২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ফাইবার কেবলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। একই ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধাও দেওয়া সম্ভব হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আধুনিক বজ্রপাত নিরোধক ও সুরক্ষিত সঞ্চালন ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের প্রধান সড়কের পাশে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এই হাইভোল্টেজ উপকেন্দ্র। সাবস্টেশনের জন্য ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে ১২৫টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি টাওয়ারের উচ্চতা ৬৫ মিটার। উপকেন্দ্রটির দৈর্ঘ্য ১২৪ মিটার এবং প্রস্থ ১৫১ মিটার। ভূমি থেকে প্রায় তিন মিটার উঁচু করে নির্মিত স্থাপনাটিতে আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কন্ট্রোল প্যানেল, ব্রেকার ও আইসোলেটর স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে চরফ্যাশনের দুলারহাট ও দক্ষিণ আইচায় দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন রয়েছে। নতুন ২৩০/৩৩ কেভি হাইভোল্টেজ সাবস্টেশন চালুর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। আগে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ গ্রহণ করে ১১ কেভি বিতরণ করা হতো। এখন ২৩০ কেভি বিদ্যুৎ গ্রহণ করে ৩৩ কেভি সরবরাহ করা হবে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির সহকারী প্রকৌশলী বশির আহম্মেদ উল্লেখ করেন, নতুন উপকেন্দ্র চালুর ফলে সিস্টেম লস ও ওভারলোড সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজও এগিয়ে চলছে। পরীক্ষামূলক চালুকরণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মামুন হাসান, গ্রিড সার্কেল খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান, জিএমডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান পলাশ, প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান এবং সিস্টেম প্রটেকশন খুলনা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলামসহ পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।