ঈদ সামনে রেখে ভোলায় প্রস্তুত অর্ধশতাধিক লঞ্চ
ষ্টাফ রিপোর্টার:
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক করতে ভোলা-ঢাকা নৌরুটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অর্ধশতাধিক লঞ্চ। ঈদ সামনে রেখে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা লঞ্চ ধোয়া-মোছা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ইতোমধ্যে অনেক যাত্রী গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। কেউ কেউ অফিসের ছুটি শুরু হলেই পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
যাত্রী তানিয়া, বিউটি ও সালমা বলেন, ঈদের সময় ভিড় একটু বেশি থাকে, তাই আগেই গ্রামের বাড়ি চলে এসেছি।
অপর দুই যাত্রী সিকদার রিয়াদ ও রাজিব বলেন, ঈদের ছুটি এখনও শুরু হয়নি, তবুও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ছুটি নিয়ে এক সপ্তাহ আগে চলে এসেছি।
আমাদের দাবি, লঞ্চে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়।যাত্রীদের দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রাপথে হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।
জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ভোলার সহজ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ হওয়ায় প্রতিবছর ঈদে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ৫ লাখের বেশি যাত্রী প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফেরেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইতোমধ্যে ফিরতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। তবে এখন যাত্রীর চাপ কিছুটা কম। নৌপথে বিশেষ করে ভোলা-ঢাকা রুটে লঞ্চই সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা। এ কারণে ঈদ মৌসুমে বাড়তি যাত্রী সামাল দিতে এবারও অর্ধশতাধিক লঞ্চ চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কর্ণফুলী লঞ্চের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, যাত্রীদের ঈদযাত্রা আরামদায়ক করতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাথরুম, টয়লেট কেবিন ও ডেক ধোয়ামোছা করে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও ডেকোরেশন করে আকর্ষণীয় করা হয়েছে। যাত্রীদের সেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
এদিকে, কয়েকটি লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি লঞ্চে লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
যাত্রীরা আশা করছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের নজরদারির মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।
ভোলা বিআইডব্লিউটিএ সহকারী পরিচালক নির্মল রায় বলেন, ঈদের সময় যাত্রীদের যাতে কোনো ভোগান্তি না পোহাতে হয় সেজন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঘাটে কোস্টগার্ড, র্যাব, নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।