আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবসে ভোলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রচারাভিযান
ষ্টাফ রিপোর্টার:
আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে ভোলায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবসে ভোলা সদরে লিফলেট বিতরণ, প্রচারাভিযান ও সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পথচারী, দোকানদার, যানবাহনের চালক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। একই সঙ্গে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সরাসরি কথা বলে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ভোলা জেলা শাখার সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া, বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখার সহসভাপতি আব্দুর রহমান, নুহা বেগম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস, সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তা আক্তার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাব্বির, মো. জুনায়েদ, দপ্তর সম্পাদক নাইমুর রহমান, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক সুমাইয়া আক্তারসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
লিফলেটে শব্দদূষণের বিভিন্ন উৎস যেমন- অতিরিক্ত হর্ন বাজানো, বিকট শব্দে মাইক ব্যবহার, নির্মাণকাজের যান্ত্রিক শব্দ, যানবাহনের বিকট আওয়াজ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এসব শব্দ কিভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং মানসিক চাপ ও অনিদ্রার মতো সমস্যাও দেখা দেয়, এসব বিষয়ও উল্লেখ করে জনগণকে সচেতন করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর ভোলা সদর উপজেলা শাখার সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগ করলেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। বসুন্ধরা শুভসংঘ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তরুণদের এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তা আক্তার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগ জনসাধারণের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না যে আমাদের ছোট ছোট কাজই বড় ধরনের শব্দদূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকের এই কার্যক্রম থেকে আমরা শিখেছি কিভাবে সচেতন হয়ে নিজেরা পরিবর্তন আনতে পারি।’ বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা সদর উপজেলা শাখার শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক সাফা ইসলাম বলেন, শব্দদূষণ একটি ‘নীরব ঘাতক’, যা ধীরে ধীরে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নষ্ট করে দেয়। তারা বলেন, ‘আমাদের দেশে শব্দদূষণ একটি অবহেলিত সমস্যা হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক। তাই এ বিষয়ে এখনই সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। আমরা চাই, মানুষ নিজেরা সচেতন হয়ে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসুক।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা বলেন, ‘শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়, তাহলে আমরা একটি সুস্থ ও শান্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারব।’ এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়-অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার না করা, নির্ধারিত সময় ছাড়া মাইক ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা এবং আইন মেনে চলা। এসব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সচেতনতামূলক এই কার্যক্রমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সমাজসেবীরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং ধীরে ধীরে শব্দদূষণ কমে আসবে। তারা ভবিষ্যতেও পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।