অতিবৃষ্টিতে ভোলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসল[/caption]
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া, আলীনগর ও বাপ্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন রবি শস্যের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চলতি মে মাসে রবি শস্যের মাঠগুলো শুকনো থাকার কথা থাকলেও হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে প্রতিটি মাঠের সয়াবিন, চিনাবাদাম, ফেলন, মুগডালসহ অন্যান্য ফসল জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। প্রতিটি ক্ষেতের অধিকাংশ শস্য এবং গাছ পানিতে ডুবে পঁচে রয়েছে। অবশিষ্ট ফসলটুকু কেউ কেউ কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ রাগে-ক্ষোভে ক্ষেতের অবশিষ্ট ফসল তুলতেও চাচ্ছেন না।
কৃষকরা জানান, মূলত বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল কর্তন পর্যন্ত রবি শস্যের জন্য অনুকূল পরিবেশ হচ্ছে শুকনো ক্ষেত। অর্থাৎ ক্ষেতে জলাবদ্ধতা মানেই কৃষকদের ভাগ্যডুবি।
কৃষক দুলাল পাটোয়ারী দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ধারদেনা করে ৬ গন্ডা জমিতে (৮৪ শতাংশ) সয়াবিনের আবাদ করেছিলাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছিল, কিন্তু যেন মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। আশা ছিল, মে মাসের মাঝামাঝিতে ফসল ঘরে তুলব। অতিবৃষ্টিতে আমার ৬ গন্ডা জমির সয়াবিনের মধ্যে ৪ গন্ডার সয়াবিন ক্ষেতেই পুরোপুরি পঁচে গেছে। বাকি দুই গন্ডাতেও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমার প্রায় ১ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষেতেই পচে গেছে। অবশিষ্ট ফসল কর্তন করলে শ্রমিকের খরচ ও উঠবে না। তাই ক্ষেতেই ফেলে রেখেছি।
কৃষক মো. হান্নান বলেন, সয়াবিনের গাছ যখন বড় হয়ে ফলন ধরতে শুরু করল, তখন ব্যাপক খুশি হয়েছি, কিন্তু শেষমেশ সবই শেষ। ১৬ গন্ডার সয়াবিনের মধ্যে প্রায় ১০ গন্ডার সয়াবিন পুরোপুরি পচে গেছে। ক্ষেতে প্রায় ১ ফুটের মতো পানি জমে আছে। সয়াবিন গাছ মূলত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর গাছের গোড়াতেই সবচেয়ে বেশি ফলন হয়, উপরের দিকে একেবারে কম হয়। পানির কারণে গাছের গোড়ায় থাকা সব সয়াবিনের থোকা পচে গেছে।
কৃষক মো. আলী বলেন, ক্ষেতের অবশিষ্ট ফসল কর্তন করতে গিয়েও বিপদে পড়েছি। একজন শ্রমিকের সবমিলিয়ে দৈনিক বেতন ৮০০-১ হাজার টাকা, অথচ একজন শ্রমিক তার বেতনের সমান সয়াবিন ও কর্তন করতে পারছেন না। ক্ষেতে সয়াবিন নেই, কী করব? কিছু আর অবশিষ্ট রইল না। দেনা শোধ করব কিভাবে?
কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, এবার ৩ গন্ডা জমিতে চিনাবাদাম লাগিয়েছি। আশা ছিল, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তা তুলব। ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে মাটির মধ্যেই সব বাদাম পচে গেছে; গাছগুলোও মরে গেছে। এ ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠব বুঝতেছি না। সরকারি সহযোগিতা না পেলে আগামীতে ফসলের আবাদ করতে পারব কিনা তাও জানি না।
এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শামীম আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, অতিবৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে সরকারিভাবে তাদেরকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
অতিবৃষ্টিতে ভোলায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি
বিশেষ প্রতিনিধি:
চলতি মাসের অতিবৃষ্টিতে শুধু রবি শস্য ফসলের মাঠ ডুবেনি, ডুবেছে ভোলা জেলার ২৩ হাজার ৩৭৩ জন কৃষকের ভাগ্য। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে ক্ষেতে পানি জমে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে তাদের উৎপাদিত তিনভাগের দুইভাগ ফসল। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এ জেলার হতদরিদ্র ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, অতিবৃষ্টিতে ভোলায় কৃষকদের ১ হাজার ৪২৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ২৬৫ হেক্টরের সয়াবিন, ৬৯৫ হেক্টরের চিনাবাদাম, ১৫০ হেক্টরের মুগডাল, ৩৫ হেক্টরের ফেলন ডাল, ৬৮ হেক্টর শাকসবজি ও ১০০ হেক্টরের কাচামরিচ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং শস্যের ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন।
[caption id="attachment_5051" align="alignnone" width="1280"]
অতিবৃষ্টিতে ভোলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসল[/caption]
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া, আলীনগর ও বাপ্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন রবি শস্যের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চলতি মে মাসে রবি শস্যের মাঠগুলো শুকনো থাকার কথা থাকলেও হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে প্রতিটি মাঠের সয়াবিন, চিনাবাদাম, ফেলন, মুগডালসহ অন্যান্য ফসল জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। প্রতিটি ক্ষেতের অধিকাংশ শস্য এবং গাছ পানিতে ডুবে পঁচে রয়েছে। অবশিষ্ট ফসলটুকু কেউ কেউ কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ রাগে-ক্ষোভে ক্ষেতের অবশিষ্ট ফসল তুলতেও চাচ্ছেন না।
কৃষকরা জানান, মূলত বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল কর্তন পর্যন্ত রবি শস্যের জন্য অনুকূল পরিবেশ হচ্ছে শুকনো ক্ষেত। অর্থাৎ ক্ষেতে জলাবদ্ধতা মানেই কৃষকদের ভাগ্যডুবি।
কৃষক দুলাল পাটোয়ারী দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ধারদেনা করে ৬ গন্ডা জমিতে (৮৪ শতাংশ) সয়াবিনের আবাদ করেছিলাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছিল, কিন্তু যেন মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। আশা ছিল, মে মাসের মাঝামাঝিতে ফসল ঘরে তুলব। অতিবৃষ্টিতে আমার ৬ গন্ডা জমির সয়াবিনের মধ্যে ৪ গন্ডার সয়াবিন ক্ষেতেই পুরোপুরি পঁচে গেছে। বাকি দুই গন্ডাতেও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমার প্রায় ১ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষেতেই পচে গেছে। অবশিষ্ট ফসল কর্তন করলে শ্রমিকের খরচ ও উঠবে না। তাই ক্ষেতেই ফেলে রেখেছি।
কৃষক মো. হান্নান বলেন, সয়াবিনের গাছ যখন বড় হয়ে ফলন ধরতে শুরু করল, তখন ব্যাপক খুশি হয়েছি, কিন্তু শেষমেশ সবই শেষ। ১৬ গন্ডার সয়াবিনের মধ্যে প্রায় ১০ গন্ডার সয়াবিন পুরোপুরি পচে গেছে। ক্ষেতে প্রায় ১ ফুটের মতো পানি জমে আছে। সয়াবিন গাছ মূলত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর গাছের গোড়াতেই সবচেয়ে বেশি ফলন হয়, উপরের দিকে একেবারে কম হয়। পানির কারণে গাছের গোড়ায় থাকা সব সয়াবিনের থোকা পচে গেছে।
কৃষক মো. আলী বলেন, ক্ষেতের অবশিষ্ট ফসল কর্তন করতে গিয়েও বিপদে পড়েছি। একজন শ্রমিকের সবমিলিয়ে দৈনিক বেতন ৮০০-১ হাজার টাকা, অথচ একজন শ্রমিক তার বেতনের সমান সয়াবিন ও কর্তন করতে পারছেন না। ক্ষেতে সয়াবিন নেই, কী করব? কিছু আর অবশিষ্ট রইল না। দেনা শোধ করব কিভাবে?
কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, এবার ৩ গন্ডা জমিতে চিনাবাদাম লাগিয়েছি। আশা ছিল, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তা তুলব। ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে মাটির মধ্যেই সব বাদাম পচে গেছে; গাছগুলোও মরে গেছে। এ ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠব বুঝতেছি না। সরকারি সহযোগিতা না পেলে আগামীতে ফসলের আবাদ করতে পারব কিনা তাও জানি না।
এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শামীম আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, অতিবৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে সরকারিভাবে তাদেরকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
অতিবৃষ্টিতে ভোলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসল[/caption]
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া, আলীনগর ও বাপ্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন রবি শস্যের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চলতি মে মাসে রবি শস্যের মাঠগুলো শুকনো থাকার কথা থাকলেও হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে প্রতিটি মাঠের সয়াবিন, চিনাবাদাম, ফেলন, মুগডালসহ অন্যান্য ফসল জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। প্রতিটি ক্ষেতের অধিকাংশ শস্য এবং গাছ পানিতে ডুবে পঁচে রয়েছে। অবশিষ্ট ফসলটুকু কেউ কেউ কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ রাগে-ক্ষোভে ক্ষেতের অবশিষ্ট ফসল তুলতেও চাচ্ছেন না।
কৃষকরা জানান, মূলত বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল কর্তন পর্যন্ত রবি শস্যের জন্য অনুকূল পরিবেশ হচ্ছে শুকনো ক্ষেত। অর্থাৎ ক্ষেতে জলাবদ্ধতা মানেই কৃষকদের ভাগ্যডুবি।
কৃষক দুলাল পাটোয়ারী দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ধারদেনা করে ৬ গন্ডা জমিতে (৮৪ শতাংশ) সয়াবিনের আবাদ করেছিলাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছিল, কিন্তু যেন মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। আশা ছিল, মে মাসের মাঝামাঝিতে ফসল ঘরে তুলব। অতিবৃষ্টিতে আমার ৬ গন্ডা জমির সয়াবিনের মধ্যে ৪ গন্ডার সয়াবিন ক্ষেতেই পুরোপুরি পঁচে গেছে। বাকি দুই গন্ডাতেও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমার প্রায় ১ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষেতেই পচে গেছে। অবশিষ্ট ফসল কর্তন করলে শ্রমিকের খরচ ও উঠবে না। তাই ক্ষেতেই ফেলে রেখেছি।
কৃষক মো. হান্নান বলেন, সয়াবিনের গাছ যখন বড় হয়ে ফলন ধরতে শুরু করল, তখন ব্যাপক খুশি হয়েছি, কিন্তু শেষমেশ সবই শেষ। ১৬ গন্ডার সয়াবিনের মধ্যে প্রায় ১০ গন্ডার সয়াবিন পুরোপুরি পচে গেছে। ক্ষেতে প্রায় ১ ফুটের মতো পানি জমে আছে। সয়াবিন গাছ মূলত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর গাছের গোড়াতেই সবচেয়ে বেশি ফলন হয়, উপরের দিকে একেবারে কম হয়। পানির কারণে গাছের গোড়ায় থাকা সব সয়াবিনের থোকা পচে গেছে।
কৃষক মো. আলী বলেন, ক্ষেতের অবশিষ্ট ফসল কর্তন করতে গিয়েও বিপদে পড়েছি। একজন শ্রমিকের সবমিলিয়ে দৈনিক বেতন ৮০০-১ হাজার টাকা, অথচ একজন শ্রমিক তার বেতনের সমান সয়াবিন ও কর্তন করতে পারছেন না। ক্ষেতে সয়াবিন নেই, কী করব? কিছু আর অবশিষ্ট রইল না। দেনা শোধ করব কিভাবে?
কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, এবার ৩ গন্ডা জমিতে চিনাবাদাম লাগিয়েছি। আশা ছিল, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তা তুলব। ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে মাটির মধ্যেই সব বাদাম পচে গেছে; গাছগুলোও মরে গেছে। এ ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠব বুঝতেছি না। সরকারি সহযোগিতা না পেলে আগামীতে ফসলের আবাদ করতে পারব কিনা তাও জানি না।
এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শামীম আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, অতিবৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে সরকারিভাবে তাদেরকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।